This site is best viewed using the updated version of Mozilla Firefox

Learn About APNIC Fellowship Program and Apply for APNIC 44

APNIC এই নামটি আমরা যারা আই.এস.পি তে কাজ করি তারা প্রায় সবাই-ই কম-বেশি শুনেছি। APNIC (Asia Pacific Network Information Center) হলো বিশ্বের পাঁচটি Regional Internet Registry (RIR) সমূহের মধ্যে একটি যারা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশসমূহের বিভিন্ন কোম্পানীকে পাবলিক আই.পি এ্যাড্রেস ও AS নম্বর প্রদান করে। কিন্তু শুধুমাত্র পাবলিক আই.পি এ্যাড্রেস ও AS নম্বর প্রদান করাই APNIC এর কাজ নয়। তারা আমাদের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশসমূহে “ইন্টারনেট” এর প্রসারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। APNIC এর সদর দপ্তরটি অষ্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন এ অবস্থিত।

আমরা একজন নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে অনেকেই মনে করে থাকি যে, বিশ্বের “ইন্টারনেট” নামক জিনিষটি যে কাজ করে তার পেছনে কিছু টেকনিক্যাল বিষয় জড়িত যেমনঃ রাউটিং, সুইচিং, সিকিউরিটি, ডি.এন.এস ইত্যাদি। কিন্তু আসলে তা না….। এই সকল টেকনিক্যাল বিষয়সমূহের সাথে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত, তা হলো “পলিসি”। ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করবে, ইন্টারনেটের বিস্তারের সাথে জড়িত সংগঠনগুলোর কোনটির কাজ কি হবে, প্রটোকল কিভাবে কাজ করবে, আই.পি এ্যাড্রেসের সুষ্ঠু সরবরাহ ও ব্যবহার কি রকম হবে ইত্যাদি সহ আরো অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যেগুলো “পলিসি” সংক্রান্ত বিষয়। APNIC এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এই সকল “পলিসি” বিষয়ক কাজগুলো সমন্বয় করা, বিভিন্ন “পলিসি উন্নয়ন” কাজে অংশগ্রহণ করা এবং এই কাজে নেতৃত্ব দেওয়া। এছাড়াও ইন্টারনেটের বিস্তারের সাথে জড়িত সংগঠনগুলো যেমনঃ ISOC, IETF, IANA, ICANN, IGF, NOG সহ বিশ্বের অন্যান্য RIR সমূহের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে ইন্টারনেটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।

আর এই সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য APNIC এর বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে, যারা অত্যন্ত নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্ব নিয়ে তাদের যার যার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নেটওয়ার্ক প্রফেশনালদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য এবং ইন্টারনেট বিষয়ক বিভিন্ন পলিসি গঠনের উদ্দেশ্যে APNIC প্রতি বছর দুইটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স (Conference) আয়োজন করে থাকে। APNIC বছরের প্রথম কনফারেন্সটি আয়োজন করে APRICOT নামক আরেকটি সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে আর বছরের দ্বিতীয় কনফারেন্সটি তারা এককভাবে আয়োজন করে।

এই কনফারেন্স গুলোকে দুইটি পর্বে ভাগ করা হয়। একটি পর্বে থাকে বিভিন্ন টেকনিক্যাল ওয়ার্কশপ যেখানে বিভিন্ন ইন্টারনেট অপারেশনাল টেকনিক যেমনঃ BGP, MPLS, Linux System Administration, Security, IPv6 ইত্যাদির উপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এবং আরেকটি পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এক্সপার্টরা জড়ো হন ইন্টারনেটের টেকনিক্যাল ও পলিসি বিষয়ক বিভিন্ন জটিল ও সুক্ষ্ণ আলোচনার জন্য, যেটি হলো কনফারেন্স পর্ব।

APNIC Fellowship Program

APNIC এর এই ওয়ার্কশপ ও কনফারেন্স গুলোতে অংশগ্রহণ করা একটু ব্যয়বহুল যা অনেকের পক্ষেই বহন করা সম্ভব হয় না। কিন্তু আশার কথা হলো APNIC এই ওয়ার্কশপ ও কনফারেন্স গুলোতে অংশগ্রহণের জন্য এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নবীন ইঞ্জিনিয়ার এবং আই.সি.টি বিষয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের Fellowship প্রদান করে থাকে। APNIC তাদের Fellowship প্রোগামের আওতায় বাছাইকৃতদেরকে ওয়ার্কশপ ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণের জন্য বিনামূল্যে রেজিষ্ট্রেশন সুবিধা প্রদান করে, এমনকি আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া, থাকা-খাওয়ার খরচসহ হাত খরচ হিসেবে কিছু টাকাও প্রদান করে।

একজন Fellow এর জন্য APNIC এত টাকা খরচ করে তার কারণ হলো, ঐ Fellow দেশে ফিরে গিয়ে ওয়ার্কশপ বা কনফারেন্সে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসমূহ তার নিজের দেশের মানুষের সাথে শেয়ার করবে। এতে করে অনেক বেশি মানুষ এর মাধ্যমে উপকৃত হবে এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ইন্টারনেটের উন্নয়নের জন্য APNIC এর গৃহীত কাজগুলো আরো বেগবান হবে।

অন্যান্য বারের মতো এবারও APNIC তাদের চুয়াল্লিশতম কনফারেন্স আয়োজন করতে যাচ্ছে। এটি অনুষ্ঠিত হবে Taiwan এর Taichung শহরে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ৭ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর এর ৭ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত হবে ওয়ার্কশপ পর্ব এবং ১২ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত হবে কনফারেন্স পর্ব।

https://conference.apnic.net/44/program/schedule

Apply for APNIC 44

APNIC ইতিমধ্যে তাদের এই কনফারেন্সের জন্য Fellowship আবেদন গ্রহণ করা শুরু করেছে। এইবার তারা মোট তিনটি ক্যাটাগরীতে Fellowship দিচ্ছে। এগুলো হলো Professional Fellowship, Youth Fellowship এবং Returning Fellowship ।

Professional Fellowship: এই ক্যাটগরীতে তারা ইন্টারনেট বিষয়ক কাজের সাথে যুক্ত বিভিন্ন প্রফেশনালদের সুযোগ প্রদান করে। এক্ষেত্রে আই.এস.পি ও বিভিন্ন সার্ভিস প্রোভাইডারে কর্মরত ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পায়। এটি শুধুমাত্র ওয়ার্কশপ অথবা কনফারেন্স অথবা উভয় পর্বের জন্য হতে পারে।

Youth Fellowship: এই ক্যাটগরীতে তারা আই.সি.টি বিষয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের শুধুমাত্র কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করে থাকে।

Returning Fellowship: APNIC এই ক্যাটাগরীটি এবারই প্রথম চালু করেছে। এই ক্যাটাগরীর আওতায় তারা APNIC ও APRICOT এ ইতিমধ্যে যারা Fellowship পেয়েছে (Past Fellow) তাদের মধ্য থেকে চার/পাঁচ জনকে শুধুমাত্র কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সুযোগ দিবে।

Fellowship পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্তাবলীঃ

১. আপনাকে অবশ্যই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কোন একটি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হতে হবে। উন্নত দেশের কাউকে তারা Fellowship প্রদান করে না।

২. ইন্টারনেটের টেকনিক্যাল ও পলিসি বিষয়ক কাজের সাথে যুক্ত থাকতে হবে অথবা ভবিষ্যতে কাজ করার আগ্রহ থাকতে হবে।

৩. ইংরেজীতে পারদর্শী হতে হবে। (এটি শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা নেই, কিন্তু যেহেতু এটি একটি আর্ন্তজাতিক ইভেন্ট তাই এর ভাষা ইংরেজী হবে এটিই স্বাভাবিক।)

৪. ভ্যালিড পাসপোর্ট থাকতে হবে। (আপনি Fellowship এর জন্য নির্বাচিত হলে, আপনাকে নিজ উদ্যোগ ও খরচে তাইওয়ানের ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।)

APNIC এর Fellowship Program নিয়ে আরো বিস্তারিত জানার জন্য আপনারা এই লিঙ্কসমূহ ভিজিট করতে পারেন।

https://conference.apnic.net/44/fellowship/overview/

https://conference.apnic.net/44/fellowship/categories/

https://conference.apnic.net/44/fellowship/terms/

https://conference.apnic.net/44/fellowship/faq/

ব্যক্তিগতভাবে আমার সুযোগ হয়েছিল APNIC এর একটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করার। Professional Fellowship এর আওতায় আমি গত বছর শ্রীলংকার রাজধানী কলোম্বো তে অনুষ্ঠিত APNIC 42 তে ওয়ার্কশপ এবং কনফারেন্স উভয় পর্বেই অংশগ্রহণ করেছিলাম। বাংলাদেশ থেকে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সময়ে আরো অনেকেই Fellowship পেয়েছেন।

APNIC এর এই ইভেন্টগুলো যে কতটা শিক্ষনীয়, আনন্দময় ও বৈচিত্রময় তা কেউ নিজে অংশগ্রহণ না করে বুঝতে পারবে না। APNIC এর Fellowship প্রাপ্তি নিশ্চিতভাবেই আপনার জীবনের একটি স্মরণীয় অর্জন হতে পারে। আপনারা যারা APNIC 44 এর ব্যাপারে আগ্রহী তারা এই Fellowship এর জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার শেষ সময় হলো ৭ জুলাই, ২০১৭ ইং তারিখ পর্যন্ত।


#apnic44

তারিখঃ ২৫-০৫-২০১৭ইং